পৃথিবীর ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর ভ্রমণ-পর্ব -৯

যদিও আমার আর খোকন ভাইয়ের ক্যাবলকারে ওঠার খুব ইচ্ছে ছিল। কিন্তু খোকন ভাই অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় আমাদের সেই ইচ্ছা আর পূরণ হলো না।খোকন ভাই অসুস্থ হওয়ায় তাকে নিয়ে আমি সবুজ গালিচা বিছানো মাঠে বসে প্রায় তিন চার ঘন্টা সময় অতিবাহিত করলাম।অপরদিকে নুরু ভাই আর সাইফুল ভাইকে অনেক খোঁজাখুঁজি করার পরেও তাদের কোনো দেখা মিলল না অনেকটা ঘাবড়ে গেলাম।খোকন ভাই অসুস্থ হওয়ায় খোকন ভাইকে গাড়িতে শুয়ে থাকতে বললাম আমি নুরু ভাই আর সাইফুল ভাইকে খুঁজতে বের হয়ে গেলাম।অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাদের দেখা পেলাম না।খুব পেরেশান হয়ে গেছিলাম।আদর সাথে ফোন ছিল না।কোন খোঁজ খবর না পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়লাম।ড্রাইভারকে বললাম ওদের একটু খোঁজ নিতে ড্রাইভারও ওদেরকে খুঁজতে বের হয়ে গেল।

ওদিকে খোকন ভাইয়ের অবস্থা একটু বেশি খারাপ হয়ে গেলো শরীরের জ্বর 100 ডিগ্রির মত।একা একা কি করব বুঝতে পারতেছিলাম না।প্রায় তিন ঘন্টা পর সদরে সাইফুল ভাই আর নূরু ভাইকে দেখতে পেলাম শরীরে তখন প্রচুর রাগ।তারা আমাদের কাছে আসার সাথে সাথেই নিজের অজান্তেই তাদের সাথে একটু খারাপ ব্যবহার করে ফেললাম।তখন নুরু ভাই আর সাইফুল ভাই বিষয়টি বুঝতে পেরে স্যরি বলল।কিছুটা স্বস্তি পেলাম।গুলমার্গ খুব সুন্দর জায়গা কিন্তু আমার জন্য খুব খারাপ সময় কেটেছে কারণ আমি টিম লিডার হিসেবে তাদের সাথে ছিলাম তাদের ভালো-মন্দ সকল কিছুর দায়ভার আমার উপরে ছিল তাই তারা আমাকে না বলে হঠাৎ চলে যাওয়াই আমি একটু চিন্তিত হয়ে পড়লাম।গুলমার্গ  নৈসর্গিক সৌন্দর্য আমি ঠিকমত উপভোগ করতে পারলাম না মনে একটা আক্ষেপ থেকে গেল।যাইহোক কিছুই করার নেই মনকে শান্ত করে রওনা হলাম শ্রীনগরের উদ্দেশ্যে।

গুলমার্গ  থেকে ফেরার পথে আবারো সেই পাহাড়ি রাস্তা দুইপাশে ঝাউ গাছ , পর্বতের উপর তুষারের স্তুপ জমে থাকা দারুণ উপভোগ করতেছিলাম।আর নুরু ভাই আর সাইফুল ভাইয়ের উপর খুব রাগ হচ্ছিল কারণ তাদের জন্য আমার খুব খারাপ সময় কেটেছে।তাই ওই সময়ে সিদ্ধান্ত নিলাম আমি আবার এই গুলমার্গ  আসবো এমনকি 2019 সালের জানুয়ারী মাসে আমি পুনরায় গুলমার্গ কে গিয়েছিলাম।গুলমার্গ কের সন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছিল।এইখানকার সৌন্দর্য যে কাউকেই মুগ্ধ করবে।

আমরা যখন শ্রীনগর ফিরছিলাম তখন সময় পুরোপুরি বিকাল আবহাওয়া, চারদিকের পরিবেশ নৈসর্গিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলছিল।মনে হচ্ছিল আরো অনেক সময়ই এখানে কাটিয়ে দিই কিন্তু ওই এলাকায় পর্যটকদের জন্য কিছু নিয়ম নীতি রয়েছে সন্ধ্যার আগে ওই এলাকা ত্যাগ করতে হবে।তার পরেও একটি পর্যটন পয়েন্টে আমরা এক ঘণ্টার মতো সময় অতিবাহিত করলাম কিছু ছবি তুললাম স্মৃতির ডাইরিতে রেখে দেওয়ার জন্য।শ্রীনগরে ফেরার পথে হঠাৎ তুষারপাত শুরু হলো আমরা সত্যিই সৌভাগ্যবান কারণ জুন-জুলাইয়ে কখনো তুষারপাত পাওয়া যায় না কিন্তু একটু বৈরী আবহাওয়ার জন্য আমরা তখন দুইবার তুষারপাত পেয়েছিলাম ।এতটাই মনমুগ্ধকর লাগছিল আমি গাড়ি থামিয়ে গাড়ি থেকে নেমে গেলাম তুষারের বৃষ্টিতে ভিজবো বলে।তুষার তরল নয় তাই ভেজা হলো না কিন্তু জমাটবাঁধা তুষার গুলো হাত দিয়ে জমা করতে দারুণ লাগে যা অকল্পনীয়।শ্রীনগর ফেরার সময় টুকু ঠিক এভাবেই কাটিয়ে দিলাম নৈসর্গিক সৌন্দর্যের সাথে আর অপরূপ তুষারপাতের সাথে।আমরা সন্ধ্যার সাথে সাথেই শ্রীনগর আমাদের হোটেলে পৌঁছে গেলাম আজকে আমরা রাতের খাবার শেষ করবো একটু আগেই ।কারণ আমরা কিছু কাশ্মীরি পণ্য কেনাকাটা করতে মার্কেটে বের হব।

( চলবেই ……)

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*