পৃথিবীর ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর ভ্রমণ-পর্ব -৮

আমরা হোটেলে এসে ঘুমানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।ড্রাইভারকে পরদিন সকাল আটটায় এসে আমাদের জন্য অপেক্ষা করতে বললাম।আমরা কিছুটা ক্লান্ত ছিলাম বিধায় খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম।হোটেল ম্যানেজারকে বললাম আমাদেরকে সাতটায় ডাক দিয়ে দেওয়ার জন্য।আর হ্যাঁ একটি মজার কথা বলি কথাটি হলো এই দুইদিনে একমাত্র সাইফুল ভাই ব্যতীত আর কেউ গোসল করি নাই।এ নিয়ে আমাদের ভিতরে বিরাট একটা হাস্যরস চলছিল আমাদের ভালই লাগছিল।আর একটি কথা আমরা চারজনে তুই রুমে ভাগ করেছিলাম আমি আর খোকন ভাই এক রুমে নুরু ভাই আর সাইফুল ভাই এক রুমে।খোকন ভাই ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন দেখে কান্নাকাটি করত এমনকি খুব ভয় পেত তার সাথে আমার তিনটা ট্যুর দেওয়া হয়েছে তিনটা ট্যুর ই আমি সেম জিনিস উপলব্ধি করলাম ।যাই হোক আমরা ঘুমিয়ে গেলাম।

ঘুমোতে ঘুমোতে হঠাৎ দরজায় নক করার শব্দ পেলাম। হাতের কাছে থাকা মোবাইলে ঘড়ির টাইম দেখে নিলাম, টাইম দেখে চোখ কপালে উঠলো সকাল সাড়ে আটটা বাজে যেখানে আমাদের ৮ টায় রওনা হয়ে যাওয়ার কথা।হোটেল ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করলাম আমাদেরকে কেন আগে ডাক দেয় নি উত্তরে ম্যানেজার জানাল আমাদেরকে নাকি ২ ঘন্টা যাবৎ উনি নক করে যাচ্ছে আমরা নাকি ঘুমে বেহুশ হয়ে গিয়েছিলাম।ঘুম একটু বেশি হওয়ার কারণ আবহাওয়া খুব শীতল তার উপর আমরা একটু ক্লান্ত ছিলাম।তড়িঘড়ি করে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা না করেই বের হয়ে গেলাম গুলমার্গ এর উদ্দেশ্যে।বুঝলাম ড্রাইভার রইস আমাদের ওপর একটু বিরক্ত।কারণ বেচারা আমাদের জন্য আড়াই ঘন্টা যাবত অপেক্ষা করতেছে।প্রতিদিনের মতো ভ্রমণে যাওয়ার আগে শাকিল এর কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে নিলাম কোথায় নাস্তা করব, কোথায় গাড়ী পাকিং করব কোথায় কোথায় ঘোরাঘুরি করব।নয়টার মধ্যে গাড়িতে উঠে গুলমার্গ এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেলাম।

শহর থেকে বের হয়ে অল্প কিছুক্ষণ যাওয়ার পর আমরা সকালের নাস্তার জন্য বিরতি দিলাম।রাজা হোটেল নামে একটি খাবার হোটেল পেলাম।এই খাবার হোটেলের কথা আমাদের হোটেল ম্যানেজার শাকিল বলে দিয়েছিল এটি তার বন্ধুর হোটেল।একটি কথা আবারও বলি কখনোই কাশ্মীর কারো কাছে জিজ্ঞেস করে কোন দোকানে যাবেন না বা খাবার হোটেলে যাবেন না তাহলে আপনাকে উচ্চ মূল্য পরিশোধ করতে হবে যেটা আমরা বারবার করেছি।যাইহোক খোকন ভাই কিছুটা অসুস্থ তার পেটের সমস্যা হয়ে গেছে ইতিমধ্যে।খোকন ভাই শুধুমাত্র সিদ্ধ ডিম দিয়ে নাস্তা করবে কিন্তু হোটেলে সিদ্ধ ডিম বিক্রি করে না কারণ তারা বিভিন্ন পর্যটকদের জন্য শুধুমাত্র ভেজিটেরিয়ান আইটেমগুলো করে থাকে নন ভেজিটেরিয়ান আইটেমগুলো তারা করে না তাই বাধ্য হয়ে একটি ডিম ১০০  টাকার বিনিময়ে উনাকে ব্যবস্থা করে দিলাম।আমরা বাকিরা আলু পরোটা আর ডাল ভাজি দিয়ে নাস্তা সেরে নিলাম নাস্তা সেরে বিল হাতে আসার পর চোখ কপালে উঠার মত অবস্থা কারণ একটা ডাল ভাজির মূল্য ১৫০ টাকা।যদিও একটা ডাল ভাজি দিয়ে আমরা তিনজন নাস্তা করেছি।নাস্তা সেরে আমরা রওনা দিলাম।

শহর পেরিয়ে বেশ দূরে চলে আসার পর সামনে তুষার ঢাকা পর্বত দেখা মিলল যা দেখে খুবই মুগ্ধ হলাম চারপাশে বিশাল বড় বড় ঝাউগাছ পর্বতের বুকে ঝাউগাছ আর তুষার দেখে আমাদেরকে ভুলিয়ে দিল আমাদের ভ্রমণ এর সকল ক্লান্তি সকল কষ্টকে।কাশ্মীরের সবসময়ই গুলমার্গ টেম্পারেচার খুব কম থাকে অন্য সব জায়গা থেকে এই জায়গাটা একটু বেশি শীতল ।আমরা প্রায়ই দেড়ঘন্টা যাত্রায় নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে পৌঁছে গেলাম গুলমার্গ জিরো পয়েন্টে।এখানে আসার পর খোকন ভাই খানিকটা অসুস্থ হয়ে গেল উনার শরীরে জল চলে আসছে।কারণ উনি পুরোটাই গরম কাপড় ছাড়া করেছিল।তাই আমি উনাকে নিয়ে একটি জায়গায় প্রায় তিন ঘন্টা বসে সময় অতিবাহিত করলাম আর বাকি দুজন সাইফুল ভাই আর নুরু ভাই তারা পায়ে হেঁটে কেবল কার উদ্দেশ্যে রওনা হল।

( চলবেই ……)

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*