পৃথিবীর ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর ভ্রমণ-পর্ব -৭

জিরো পয়েন্ট থেকে পাহাড়ি ভয়ঙ্কর রাস্তা পেরিয়ে আমরা সোনামার্গ  এসে পৌঁছলাম। সোনামার্গ  কে আমাদের গাড়ি অপেক্ষা করছে আমরা এখান থেকে শ্রীনগরে উদ্দেশ্যে রওনা হব। সোনামার্গ  পর্বত ঘেরা এক অপরূপ সুন্দর লীলাভূমির উপত্যকা। যেখানে আসলে প্রত্যেকটা পর্যটক হারিয়ে যাবে তুষারের স্তুপ,দানবীয় আকৃতির বড় বড় বিশাল পাহাড় আর সুনীল আকাশের অপরূপ দৃশ্য দেখে।ইচ্ছে করবে সারা বিকালটা ঘোড়ায় চড়ে এই উপত্যকায় কাটিয়ে দেই।আর আমরা জুলাই মাসে ভ্রমণ করার ফলে আবহাওয়াটা খুবই ভালো ছিল। শ্রীনগরের ফেরার আগে কেন যেন মনে হচ্ছিল সোনামার্গ  সৌন্দর্য আমাকে পিছন থেকে ডাকছে।তাই আসার সময় মনটা খানিকটা খারাপ হয়ে গেল।যাই হোক তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে শ্রীনগরে উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।শ্রীনগর ফিরতে আমাদের দুই ঘন্টার মত সময় লাগবে।মাঝ পথে আমরা সিন্ধু নদীর পাড়ে এসে যাত্রা বিরতি করালাম অল্প কিছু নাস্তা করার জন্য।

এখানে আমরা কাশ্মীরের বাগানের কিছু আপেল পেলাম।মনে রাখবেন কাশ্মীর ফুল,ফল ইত্যাদিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি অঞ্চল। এখানে বিশাল বড় বড় আপেল বাগান রয়েছে তাই এখানে একদম নির্মল ভেজালমুক্ত আপেল পাবেন।আমরা বিভিন্ন ফল দিয়ে আমাদের নাস্তা সেরে নিলাম।আর হ্যাঁ কাশ্মীরি চা খেতে ভুলবেন না।সিন্ধু নদীর তীরে সন্ধ্যাকালীন সময় কাটানোর জন্য উত্তম জায়গা তাই আমরা বেশ কিছু সময় নদীর তীরে বসে নদীর গর্জন,  শীতল বাতাস উপভোগ করলাম।মাগরিবের আজান হওয়ার পর আমরা সেখান থেকে শ্রীনগর এর উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।

প্রায় দীর্ঘ 2 ঘন্টা রাস্তা অতিক্রম করার পর আমরা শ্রীনগর আমাদের হোটেলে এসে পৌঁছলাম।শ্রীনগর আসার পথে রাস্তায় আমরা কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম কারণ রাস্তার দু’ধারে সেনাবাহিনী সশস্ত্র অবস্থায় প্রস্তুত ছিল। প্রথমে আমরা বিষয়টি বুঝে উঠতে পারিনি কারণ কাশ্মীরে রাত্রিবেলায় উগ্রপন্থিদের হামলার শিকার। হয় তাই সেখানে সব সময়ই সশস্ত্রবাহিনী পজিশন নিয়ে ডিউটি করে।বিষয়টি আমাদের ড্রাইভার রইস বুঝিয়ে বলে।যেটা কাশ্মীরের সাধারণ নাগরিক কখনোই পছন্দ করে না তারা মনে করে এই সশস্ত্র বাহিনী তাদেরকে সর্বদাই জিম্মি করে রেখেছে।যাই হোক আমরা হোটেলে এসে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।

এবার রাতের খাবার পালা তবে সহসাই আমাদের খাওয়া হচ্ছে না। কারণ এই দুইদিনে খাবার নিয়ে খোকন আলম ভাই ,সাইফুল ভাই মোটামুটি বিরক্ত হয়ে গেছে ।কারণ তারা কাশ্মীরে খাবারের সাথে মানিয়ে নিতে পারছিল না আমি আর নুরুল আলম ভাই মোটামুটি কাশ্মীরি খাবারের সাথে মানিয়ে নিয়েছিলাম।তাই খাবারের বিষয়টি নিয়ে আমরা আমাদের হোটেল ম্যানেজার শাকিল এর সাথে আলোচনা করলাম ।শাকিলকে জিজ্ঞেস, করলাম বাংলাদেশি খাবার কোন হোটেলে পাওয়া যাবে ।তখন শাকিল বললো এখানে তেমনভাবে বাংলাদেশি খাবার পাওয়া যাবেনা ।তবে কিছু হোটেল আছে যেগুলোতে আপনি চাইলে রান্না করে খেতে পারবেন তাও কি শুধুমাত্র ডিম, আলু্ ভাজি, ডাল এর বাহিরে আপনি চাইলেও বাংলা কিছু পাবেন না।

আমরা চিন্তা করলাম মোটামুটি আলুভর্তা, ডিম হলেও আমাদের চলবে তাই আমরা সেই হোটেলে চলে গেলাম কিন্তু সেখানে যেই পড়লাম এক বিপত্তিতে কারণ আলুভর্তা হচ্ছে ১১৫ রুপি একটা ডিম ১১৫ রুপি। যদি আমরা বাংলা খাবার এর মত রান্না করে খেতে চাই তাও কি পুরোপুরি তারা বাংলা খাবার করে দিতে পারবে না। তখন খোকন আলম ভাই নিজেই হোটেলে রান্নার কাজে লেগে গেলেন নিজে বাংলা খাবার রান্না করলেন।

কাশ্মীর প্রথমে আপনি খাবার পরিমাণ করতে পারবেন না ।কারণ এক প্লেট ভাত আমরা যেমন বাংলাদেশে একজনও খেতে পারি সেখানে এক প্লেট বাট আপনি চারজনে খেতে পারবেন তাই পরিমাণটা আগে ঠিক করে নিবেন প্রথমে আমরা বিষয়টি  ভুল বুঝার কারণে আমাদের সমস্যা হয়েছিল।এই একটি বিষয় আমাদের পুরো টিমটাকে একটু এলোমেলো করে দিল। আমার আর নুরু ভাইয়ের কোন সমস্যা ছিল না। সমস্যা ছিল খোকন আলম ভাই আর সাইফুল ভাইকে নিয়ে তারা বাংলা ভাত ছাড়া কিচ্ছু খেতে চাইত না ।কিন্তু নুরু ভাই আর আমি যা ইচ্ছা তাই খেতে পারতাম তাই আমাদের কোন সমস্যা ছিল না। এ নিয়ে চারজনের মধ্যে সামান্য মতের অমিল হতে লাগলো।যাই হোক সবকিছু পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা সামলে নিলাম।কোনরকম আজকে রাতের খাবার সেরে হোটেলে ফিরলাম হোটেলে ফিরে কমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি কারণ পরদিন সকালবেলা আমাদের গুলমার্গ এর উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে।

গুলমার্গ হচ্ছে কাশ্মীরের সবচেয়ে সুন্দর অপরূপ এক জায়গা যেখানে আপনার মনে হবে এই বুঝি স্বর্গের খুব কাছাকাছি চলে আসছি এখানে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের বিন্দুমাত্র কমতি নেই।গুলমার্গ এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিস টা সেটা হল কেবল কার ক্যাবলকারে উপর থেকে আপনি নিচে জমে থাকা তুষারপাত অবলোকন করতে পারবেন যেটা ওইটা স্টেপ এ সাজানো প্রথম স্টেপ দ্বিতীয় স্টেপ।

 

( চলবেই ……)

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*