পৃথিবীর ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর ভ্রমণ-পর্ব -৬

সোনামার্গ থেকে জিরো পয়েন্ট যাওয়ার জন্য আমরা ২০০০ টাকায় একটি জিপ ঠিক করে নিলাম । যদিও রাস্তা খুব অল্প তবুও ভাড়াটা একটু বেশিই নিল। আমরা গাড়ি ভাড়া করে আমরা আমাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছুটলাম। প্রথম পাঁচ ছয় কিলোমিটার খুব উপভোগ করলাম। ঠিক এর পরেই শুরু হলো এক ভয়ঙ্কর যাত্রা যা দেখার জন্য আমরা মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। কারণ আমরা অলরেডি সমতলভূমি থেকে প্রায় 14 হাজার ফুট উপরে উঠে গেছি। ভয়ঙ্কর এক পাহাড়ি রাস্তা,সেই সাথে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পাওয়া। যা ছিল ভয়ঙ্কর এক রোমাঞ্চকর যাত্রা। সাথে থাকা আমার সঙ্গীরা সবাই ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে উঠল। সাইফুল ভাই বাসায় ফোন দিয়ে তার বাবার কাছে দোয়া চাইতে লাগলো । যাইহোক ভয়ের ভিতরেই আমরা পৌছে গেলাম জিরো পয়েন্টে । যেখানে আমাদের জন্য অপেক্ষা করতে ছিল তুষারে ঢাকা পাহাড় তার পিছনে সুনীল আকাশ । জিরো পয়েন্টে পৌছার পরে আমরা

ওইখানকার আবহাওয়ার সাথে মিলাতে পারিনি যার জন্য আমরা পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ঘাটতি অনুভব করছিলাম অল্পতেই আমাদের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে গিয়েছিল । তার পরেও উপভোগ করলাম নৈসর্গিক সৌন্দর্য । তুষার ঢাকা পাহাড়ের গা ঘেঁষে বয়ে গেছে সিন্ধু নদীর চলমান জলরাশি যা দেখে যে কোন পর্যটক মুহূর্তের মধ্যেই হারিয়ে যাবে ভূস্বর্গ কাশ্মীর এর অপরূপ লীলাভূমিতে। মুহূর্তের মধ্যেই মনে হবে চলে এলাম বুঝি স্বর্গে।

ইতিমধ্যে আমি লক্ষ করলাম আমার সফরসঙ্গী দুইজন আমাদের সাথে নেই আমি আর খোকন ভাই একসাথে বাকি দুইজন নুরু ভাই আর সাইফুল ভাই আমাদের সাথে নেই। মুহূর্তেই খোঁজার জন্য এদিক সেদিক চোখ বুলালাম কিন্তু খুব কাছাকাছি তাদের দেখা মিলল না। হঠাৎ দেখলাম তারা দুজন পাহাড়ের গা ঘেঁষে বরফ স্তুপের উপর দিয়ে উপরে হেঁটে যাচ্ছে। আমি আর খোকন ভাই চেষ্টা করলাম উপরের দিকে হেঁটে যাওয়ার জন্য । দু মিনিটের মতো হেঁটে উপরের দিকে যাওয়ার পরেই আমরা সেখানে বসে পড়লাম কারণ এই পরিমাণ অক্সিজেন ঘাটতি ছিল আমরা ঠিকমত শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারতেছিলাম না। তাই আমি আর খোকন ভাই উপরের দিকে আর গেলাম না। আমরা দুজন স্কেটিং শুরু করলাম। এর কিছুক্ষণ পরেই তারা দুজন এসে আমাদের সাথে যোগ দিল।শুরু হল তুষারপাতের সাথে আমাদের মিলন মেলা ভাগ্য ভাল আমরা জিরো পয়েন্টে থাকাকালীন সময়ে তুষারপাত পেয়েছিলাম।

ভুলবশত আমি আর খোকন ভাই শীতের জামা সাথে না নেওয়ার ফলে আমাদের ওইখানে অবস্থান করা খুব কষ্ট হচ্ছিল। আমরা খানিকটা অসুস্থতা বোধ করতে ছিলাম তাই বেশি দেরি না করে পাশে একটি চায়ের দোকানে চা পান করে নিলাম। চা পান করে আমরা মোটামুটি আরো এক ঘণ্টার মতো সময় এখানে অতিবাহিত করলাম । ক্রমশই অক্সিজেন স্বল্পতার জন্য আমরা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছিলাম । তাই আমরা বেশি সময় এখানে অবস্থান করিনি। আমরা শ্রীনগর ফেরার জন্য রওনা হয়ে গেলাম। মোটামুটি তখন সময় বিকাল 3:30 আমাদের দুপুরে খাওয়া এখনো হয়নি । একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা যেটা বলতে ভুলে গেছিলাম সেটা হল খাবার নিয়ে আমাদের বেশ বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছিল। কারণ কাশ্মীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ বাংলা খাবার না থাকায় আমরা কাশ্মীরি, পাকিস্তানি খাবারগুলো খেতে হয়েছিল যা মোটেও আমরা অভ্যস্ত ছিলাম না। এরই মধ্যে আমাদের সফরসঙ্গী সাইফুল আলম ভাই খাবারের প্রতি একটা বিরক্তি ভাব প্রকাশ হলো ।

তাই আমরা ঠিক করলাম এমন এক জায়গায় আমরা খাওয়া-দাওয়া করব যেখানে আমরা যা অর্ডার করব তা রান্না করে আমাদেরকে খাওয়াবে। তাই আমরা ঠিক করলাম আমরা শ্রীনগর শহরে ফিরে দুপুর আর রাতের খাবার একসাথে খেয়ে নিব আর রাস্তায় অল্প কিছু নাস্তা করে নিব। এরকম পরিকল্পনা নিয়েই আমরা ফিরতে শুরু করলাম । আমরা সেই ১৪ হাজার ফিট উপরে পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে আবার চলতে শুরু করলাম। জিরো পয়েন্ট থেকে সোনামার্গ কার পার্কিং এর স্থানে আসতে আমাদের ১ ঘন্টা ৩৫ মিনিট সময় লেগে গেল।

( চলবেই ……)

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*