পৃথিবীর ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর ভ্রমণ-পর্ব -৪

আমরা পৌঁছে গেলাম স্বপ্নের সেই ভূস্বর্গ খ্যাত কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর। এয়ারপোর্ট এর কার্যক্রম শেষ করে সোজা চলে গেলাম আমাদের আগে থেকেই বুক করা গাড়ির কাছে ।তখন সময় বিকেল তিনটা। খানিকটা ক্লান্তির ছাপ আমাদের চেহারায় ফুটে উঠল । গাড়িতে উঠে প্রথমে ড্রাইভারকে বললাম ভালো একটা খাবার হোটেলে আমাদেরকে নিয়ে যেতে। ড্রাইভার আমাদেরকে বলল রাস্তায় কোনো বাংলা খাবারের দোকান নেই। যদি খেতে হয় কাশ্মীরি খাবার খেতে হবে । আমরা বললাম আমরা কাশ্মীরি শিক কাবাব খাব । ড্রাইভার আমাদেরকে সেই অনুযায়ী ভালো একটি হোটেলে নিয়ে গেল। ভ্রমণের ক্ষেত্রে সব সময় একটা কথা মাথায় রাখবেন । সেটা হলো আপনি খাবার খান অথবা কিছু কেনাকাটা করেন প্রত্যেক জিনিসের ক্ষেত্রেই আগে দামদর ঠিক করে নিবেন । আর ড্রাইভার আপনাকে যেই জায়গায় নিয়ে নামিয়ে দিবে ওইখান থেকে কিছু কিনবেন না,খাবার খাবেন না। কারণ ড্রাইভার আপনাকে নিয়ে যাওয়ার ফলে ড্রাইভার ওই দোকান থেকে কিছু টাকা কমিশন পাবে যার জন্য আপনাকে চড়া মূল্য দিয়ে জিনিসপত্র অথবা খাবার খেতে হবে । তাই হোক আমরা অনেক জার্নি করার ফলে প্রথমবার বিষয়টি বুঝতে পারিনি তাই আমাদের প্রথমবার চড়া মূল্য দিয়ে খাবার খেতে হল। খাবার খাওয়া শেষ এবার হোটেলে যাবার পালা । গাড়িতে উঠে ড্রাইভার এর সাথে আলোচনা করে আমাদের প্রোগ্রামটা সাজিয়ে নিলাম । কারণ গাড়িটি আমাদের আগে থেকেই পুরো ট্যুরের জন্য বুক করা ছিল । সেই অনুযায়ী ট্যুর প্ল্যান টা সাজালাম । তাহলে চলুন জেনে নিই আমাদের ট্যুর প্ল্যান।

কাশ্মীরের ট্যুর প্ল্যানঃ-

প্রথম দিনঃ- শ্রীনগর ভ্রমণ।

দ্বিতীয় দিনঃ-  শ্রীনগর থেকে সোনামার্গ ভ্রমণ এবং শ্রীনগর এসে রাত্রি যাপন।

তৃতীয় দিনঃ-  শ্রীনগর থেকে গুলমার্গ ভ্রমণ এবং গুলমার্গ এসে রাত্রি যাপন।

চতুর্থ দিনঃ-  শ্রীনগর থেকে কিছু কেনাকাটা এবং পেহেলগাম এর উদ্দেশ্যে রওনা,পেহেলগাম রাত্রিযাপন।

পঞ্চম দিনঃ-  পেহেলগাম ভ্রমন জম্মুর উদ্দেশ্যে রওনা এবং জম্মুতে রাত্রিযাপন ।

ঠিক এরকম ভাবে আমরা আমাদের পুরো প্ল্যানটা সাজালাম। আমরা প্রথম দিন কলকাতা থেকে শ্রীনগর এসে পৌঁছলাম বিকাল চারটায় । তাই আমরা খুব বেশি দেরি না করে শ্রীনগরের কিছু পর্যটন এরিয়া ঘুরে দেখতে বের হয়ে গেলাম । আমরা খাবারের পর ফোটা রাস্তা থেকেই সরে আসছিলাম । আমরা শ্রীনগরে প্রথম ডাল লেকে চলে গেলাম । ডাল লেকে যাওয়ার পরে অসম্ভব এক ভালো লাগা কাজ করতেছিল । আবহাওয়াটা এতই হিমশীতল ছিল আমরা কিছুটা শীত অনুভব করলাম । প্রথম অবস্থায় শ্রীনগরের আবহাওয়ার সাথে আমাদের মিলিয়ে নিতে একটু কষ্ট হল। কিন্তু সেটা খুব বেশি সময়ের জন্য না। কারণ আমরা ঠিক এই আবহাওয়া টা উপভোগ করার জন্যই এত কষ্ট করে এখানে এসেছি। ডাল লেক শ্রীনগর এর অন্যতম একটি পর্যটন এরিয়া ।ডাল লেকে রাত্রি যাপন করার সুব্যবস্থা রয়েছে আপনি চাইলে ডাল লেক এ বোটের মাধ্যমে ডাল লেক এ রাত্রি যাপন করতে পারেন। আমরা ডাল লেকে খুব রোমাঞ্চকর সময় কাটালাম । কখন যে সন্ধ্যা নেমে আসলো টেরই পেলাম না । ডাল লেকর এতই সৌন্দর্য যা বলে, লিখে বুঝানো সম্ভব না শুধুমাত্র নিজ চোখে নিজে অনুভব করেই তা উপলব্ধি করা সম্ভব । নীল জলরাশি, পাহাড়ঘেরা জনপদ এ যেন এক স্বর্গরাজ্য যা সত্যিই অসম্ভব সুন্দর । ইচ্ছে করছিল বেশ কিছু সময় আরও থাকি, কিন্তু আবহাওয়া,আমাদের শারীরিক ক্লান্তি খুব বেশি সময় থাকতে দিল না । আমরা হোটেল রুমে ফিরে গেলাম । কারণ আমরা বেশ লম্বা পথ জার্নি করে এসেছি । তাই ড্রাইভারকে আজকের মত ছেড়ে দিলাম পরদিন সকাল সাতটায় আমাদের  সোনামার্গ ভ্রমণ শুরু করব । যেহেতু আমাদের প্রথম দিন আমরা আবহাওয়ার সাথে মিলিয়ে উঠতে কষ্ট হচ্ছে তাই ঠিক করলাম আজকে আর বের হবো না ।

( চলবে ….)

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*