পৃথিবীর ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর ভ্রমণ-পর্ব -১

কাশ্মীরের সৌন্দর্য বর্ণনা দিতে গিয়ে অনেকেই আবেগে বিহ্বল হন।কাশ্মীর ভ্রমনের কারন একটু পিছন থেকে শুরু করা যায়। কাশ্মীরের প্রকৃতির প্রেমে পড়েছিলাম মূলত সেই অনেক আগে থেকেই।ভূস্বর্গ বলে কথা! যেখানে এসে স্বয়ং মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর নাকি বলেছিলেন,পৃথিবীতে যদি কোথাও স্বর্গ থাকে,তবে তা এখানেই আছে, এখানেই আছে এবং এখানেই আছে।তাই হঠাৎ করে মাথায় চিন্তা আসলো এইবার যাবোই।যেই চিন্তা সেই কাজ।ফোন দিলাম বন্ধুদেরকে।আমার সাথে তিনজন যেতে রাজি হল।আমাদের ট্যুর প্ল্যান টা ছিল জুন মাসের ১০ তারিখ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত। আমরা কাশ্মীর যাওয়ার জন্য সহজ হিসেবে বাই এয়ার বেছে নিলাম।খুব অল্প টাকাতেই কলকাতা টু শ্রীনগর এর টিকিট পেয়ে গেলাম।ঢাকা থেকে কলকাতাও বিমানে ভ্রমণ করি।আপনাদের সাথে কাশ্মীর ভ্রমণের পুরো গল্পটা শেয়ার করলাম ভালো লাগলে পড়ে দেখবেন।

ভ্রমণের প্রস্তুতিঃ-

কাশ্মীর যেহেতু বাংলাদেশের বাহিরে ইন্ডিয়াতে অবস্থিত সেক্ষেত্রে আপনার বাংলাদেশি বৈধ পাসপোর্ট দরকার।যদি আপনার বাংলাদেশি বৈধ পাসপোর্ট থেকে থাকে তাহলে তো কোন কথাই নেই । আর যদি পাসপোর্ট না থাকে তাহলে প্রথমে আপনাকে বাংলাদেশী পাসপোর্ট করে নিতে হবে।পাসপোর্ট এর পরে আপনার যেটা লাগবে সেটা হচ্ছে , ভারতীয় টুরিস্ট ভিসা।ভারতীয় টুরিস্ট ভিসা পাওয়া খুবই সহজ।ভারতীয় ভিসা পেতে ভারতীয় হাইকমিশনের ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ওয়েবসাইটে লগইন করে আপনাকে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।ভিসার জন্য আবেদন করতে আপনার যা যা লাগবেঃ- বাংলাদেশি বৈধ পাসপোর্ট ,এক কপি ছবি, এনআইডি ফটোকপি ,আপনার পেশাগত ডকুমেন্ট,বিদ্যুৎ বিলের কপি, ডলার এন্ডোর্সমেন্ট কপি অথবা ব্যাংক স্টেটমেন্ট।আবেদন করার সাত থেকে আট দিনের মধ্যে আপনি ভিসা পেয়ে যাবেন।তো আর কি এখানে পাসপোর্ট আর ভিসা পর্ব শেষ এখন টিকিটের পালা।আসুন শুরু করি কাশ্মীর যাত্রা।আমি যেহেতু বিমানে ভ্রমণ করেছি সে ক্ষেত্রে আমি বিমানে যাতায়াতের রাস্তা এমনকি বিমানের টিকিটের দামগুলো এখানে উল্লেখ করে দিচ্ছি।আমি বাংলাদেশ থেকে কলকাতা আপ এন্ড ডাউন ৮৭০০ টাকায় টিকিট করেছিলাম।এবং কলকাতা টু শ্রীনগর ,জম্মু টু কলকাতা টোটাল ১০০০০ টাকায় করেছিলাম।ভ্রমণের এক থেকে দুই মাস আগে টিকিটগুলো বুক করেছিলাম তাই কম প্রাইজে টিকিটগুলো পেয়েছি।

কবে যাবেনঃ-

কাশ্মীর ভ্রমণ মূলত এক পর্বে শেষ করতে পারবেন না কাশ্মীর এর পূর্ণরূপ দেখতে আপনাকে কাশ্মীর তিনবার যেতে হবে।প্রথম গিয়েছিলাম জুলাই মাসের ১০ তারিখ।তখন বাংলাদেশে গরমের সময় ছিল।কে আবার আমি জানুয়ারি মাসের ২০ তারিখে গিয়েছিলাম।তৃতীয়বার এখনো যাওয়া হয়নি।তিনবার যেতে হবে এই কারণে বললাম কারণ কাশ্মীরে তিনবার আপনি তিন রকম আবহাওয়া উপভোগ করতে পারবেন।জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাবেন কাশ্মীরের ফলের সমাহার, নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পাবেন তুষারপাত , এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত পাবেন ফুলের সমাহার।সবচেয়ে উত্তম সময় হচ্ছে এপ্রিল মাস কারণ এপ্রিল মাসে আপনি কাশ্মীর এর পূর্ণরূপ উপভোগ করতে পারবেন। সেই সাথে অপরূপ টিউলিপ ফুল বাগান ঘুরে দেখে দেখে আসতে পারেন।কাশ্মীর ভ্রমণের প্রথম পর্ব আজ এই পর্যন্তই দ্বিতীয় পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন গল্পটি চলবেই ……

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*