পৃথিবীর ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর ভ্রমণ-পর্ব -৩

আমরা কলকাতা এয়ারপোর্ট পৌঁছলাম ঠিক ৪:২০ এ। এয়ারপোর্টে পৌঁছে এয়ারপোর্ট এর সকল কাজ সম্পন্ন করলাম। ওয়েটিং এরিয়াতে গিয়ে আমরা সকালের নাস্তা সেরে নিলাম। এয়ারপোর্টের ভিতরে খাবারের দাম অনেক বেশি। কিছু করার নেই নাস্তা তো করতে হবে তাই বাধ্য হয়েই নাস্তা করে নিলাম। আমাদের ফ্লাইট টাইম 7:15 দিল্লিতে পৌঁছাতে আমাদের দুই ঘন্টা 30 মিনিট সময় লাগবে। তাই আমরা হালকা নাস্তা করিয়ে নিলাম। যথারীতি অপেক্ষার পর আমাদের সেই কাঙ্খিত গন্তব্যে যাত্রা শুরু হলো।আমরা কলকাতা থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত ইন্ডিগো এয়ার টিকিট কিনেছিলাম।ভারতে ডোমেস্টিক লেভেলে সবচেয়ে কম প্রাইজে টিকিট সেল করে থাকে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স।ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স যথাসময়ে ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। তাই আমাদের আর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না। আস্তে আস্তে মনের মধ্যে শিহরণ জাগ্রত হতে লাগলো।শুরু করতে যাচ্ছি রোমাঞ্চকর সেই কাঙ্খিত যাত্রা যার উদ্দেশ্যে এত কষ্ট করে এখানে আসা।ঠিক তার পাঁচ মিনিট আগেই আমরা বিমানে আমাদের সিটে গিয়ে বসে পড়লাম। আমরা দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা করলাম দিল্লি পৌঁছে আমাদের সময় লেগেছিল দুই ঘন্টা পর 40 মিনিটের মত।আমরা দিল্লি এসে পৌঁছলাম দিল্লিতে আমাদের ট্রানজিট 2 ঘন্টা। এই দুই ঘণ্টা সময় আমাদের জন্য খুব বিরক্তকর মনে হল কারন আমরা এখনও আমাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য মানে পৃথিবীর ভূস্বর্গ যেতে পারিনি। যাইহোক কিছু করার নেই অল্প টাকায় বিমান ভ্রমণ করলে যা হয় আর কি।

12:40 এ আমাদের পরবর্তী ফ্লাইট তাই আমরা এয়ারপোর্টে অবস্থান করবো।দিল্লি এয়ারপোর্ট ভারতের প্রধান এয়ারপোর্ট এখান থেকে ভারতের প্রত্যেকটা প্রদেশ ফ্লাইট পরিচালনা হয়ে থাকে।তাই এখানে তিনটি টার্মিনাল আছে। টার্মিনালগুলোর কথা এইজন্য উল্লেখ করলাম কারণ আমরা এক নম্বর টার্মিনালে ল্যান্ডিং করেছি। আমাদের দুই নম্বর টার্মিনাল থেকে টেক অফ করতে হবে শ্রীনগরের উদ্দেশ্যে। আমরা এক নম্বর টার্মিনাল থেকে দুই নম্বর টার্মিনালে পৌঁছে গেলাম।দিল্লি এয়ারপোর্ট অনেক সুন্দর একটি ইয়ারপোর্ট।এয়ারপোর্টে ঘুরে দেখতে দেখতে 2 ঘণ্টার সময় মুহূর্তে কেটে গেল।ঘুরে দেখতে দেখতে কখন যে আনমনা হয়ে গেলাম টেরই পেলাম না হঠাৎ করে নুরুল ইসলাম ভাই বলল যে আমাদের সাইটের সময় হয়ে গেছে।তাই আর বেশিক্ষণ দেরী না করে আমরা আমাদের বিমানে আসন নেয়ার জন্য চলে গেলাম।দিল্লি থেকে শ্রীনগর যাতে আমাদের সময় লাগবে 1 ঘন্টা 35 মিনিট। আমরা পৃথিবীর স্বর্গে যেতে প্রস্তুত তাই আর বেশিক্ষণ দেরী না করে উঠে বসে পড়লাম বিমানে। যথাসময়ে উড়তে শুরু করলাম। সে যে কি এক অনুভুতি ভাষায় লিখে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। মনে শুধু একটাই শিহরন কখন পৌঁছাব ভূস্বর্গ কাশ্মীর।খুব বেশি অপেক্ষা করতে হলো না আমরা পৌছে গেলাম শ্রীনগর এয়ারপোর্ট। কাশ্মীরের অপরূপ দৃশ্য আমরা কিছুটা উপলব্ধি করলাম । ল্যান্ডিংয়ের ঠিক আগ মুহূর্তে সে যে কি এক দারুন দৃশ্য চোখে লেগে থাকার মত। মনে হচ্ছিল দুই দিনের এই জার্নি সার্থক। বিমান ল্যান্ড করার সাথে সাথে খুব তাড়াহুড়ো করে নিচে নামলাম কারণ মন আর মন ছিলোনা কাশ্মীরের আবহাওয়া উপভোগ করার জন্য । বিমান থেকে নেমে যখন এয়ারপোর্টে পৌঁছে একটু বিরম্বনায় পড়লাম।

যদিও এই বিরম্বনার কথাগুলো আগে থেকেই জানা ছিল কারণ আমার এক বড় ভাই আগে কাশ্মীর ভ্রমণ করে গিয়েছিল উনার কাছ থেকে সকল তথ্য নিয়েই এখানে এসেছি। বিরম্বনা হচ্ছে এখানে আপনার সকল ডাটা এন্ট্রি করতে হবে। যেটা আমরা আগে থেকে জানতাম।কিন্তু যখন আমরা ডাটা এন্ট্রি করতে গেলাম আমরা দালালের খপ্পরে পড়লাম । তারা আমাদেরকে গাড়ীর জন্য প্রেসার করতে ছিল ।গাড়ি না দিলে আপনি এয়ারপোর্ট থেকে বের হতে পারবেন না । কিন্তু আমাদের তো গাড়ি, হোটেল আগে থেকেই বুক করা ছিল ।তখন বাধ্য হয়ে তাদের সাথে একটু কথা কাটাকাটি করতে হলো এটাই ছিল এই ট্যুরের বিড়ম্বনা।যাই হোক আমরা এয়ারপোর্ট এর সকল কাজ সেরে বের হয়ে। গেলাম ড্রাইভার আমাদের জন্য অপেক্ষা করতেছিলাম । ও হ্যাঁ বলতেই তো ভুলে গেলাম কাশ্মীরের সুন্দর আবহাওয়ার কথা বিমান থেকে নামার পর এই শরীরে এমন একটি শীতল বাতাস লাগলো সকল ক্লান্তি,সকল পরিশ্রম, সার্থক হয়ে গেল। মনে হল সত্যি প্রবেশ করলাম দুনিয়ার স্বর্গে ।

( চলবে….)

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*